শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
লেখকঃ শেইখ
সলীহ্ ইবন্ ফাওযান আল–ফাওযান
অনুবাদ
ও সম্পাদনাঃআবদ্ আল-আহাদ | ওয়েব এডিটিং: শাবাব
শাহরিয়ার খান
লা ইলাহা
ইল্লাল্লাহ্
অর্থাৎ, আল্লাহ্
ছাড়া ইবাদতের যোগ্য অন্য কোন সত্য ইলাহ্ নেই। এই কথা যদি কেউ সত্যতার
সাথে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে উচ্চারন করে, এ কথার অর্থ যা বলে সে অনুযায়ী
জীবন পরিচালনা করে, বিশ্বাস এবং চালচলনে এই কথাকে বাস্তবিক রূপদান করে
তাহলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয় জীবনেই একথার প্রভাব আসলেই চমৎকার এবং
প্রশংসনীয়।
“লা
ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” এর তিনটি
উল্লেখযোগ্য ক্ষমতাঃ
[১] গোটা মুসলিম উম্মাহ্কে
একত্রীকরণঃ
একথা গোটা মুসলিম
উম্মাহ্কে ঈমানের শক্তিতে বলীয়ান করবে। ফলে তারা বাতিল শক্তি তথা তাদের
শত্রুদের বিপক্ষে সংগ্রামে বিজয়ী হবে। আর এটা তখনই সম্ভব যখন আমরা সকলেই
আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন কর্তৃক মনোনীত একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলামকে অনুসরণ
করব, মেনে চলব। যখন আমাদের আকীদাহ্ তথা ধর্মীয় বিশ্বাস হবে এক ও অভিন্ন।
মহান আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ
“আর
তোমরা একযোগে আল্লাহ্র রজ্জুকে সুদৃঢ়রূপে ধারন কর ও বিভক্ত হয়ে যেয়ো
না।” [সূরা আল ইমরান; ৩:১০৩]
“আর
তারা যদি তোমাকে প্রতারিত করার ইচ্ছা করে তবে তোমার জন্যে আল্লাহ্ই
যথেষ্ট, তিনিই তোমাকে স্বীয় সাহায্য দ্বারা এবং মু’মিনগণ
দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। আর তিনি মু’মিনদের
অন্তরে প্রীতি ও ঐক্য স্থাপন করেছেন, তুমি যদি পৃথিবীর সমুদয় সম্পদও
ব্যয় করতে তবুও তাদের অন্তরে প্রীতি, সদ্ভাব ও ঐক্য স্থাপন করতে পারতে না;
কিন্তু আল্লাহ্ই ওদের পরস্পরের মধ্যে প্রীতি ও সদ্ভাব স্থাপন করে
দিয়েছেন, নিঃসন্দেহে তিনি মহাশক্তিমান, মহাকৌশলী।”
[সূরা আনফাল; ৮:৬২-৬৩]
আকীদাহ্ তথা বিশ্বাসগত পার্থক্যের কারনেই মুসলিম
উম্মাহ্র মধ্যে আজ এতো বিভেদ, অনৈক্য, বিভ্রান্তি আর বিশৃঙ্খলা। একমাত্র
এই কারনেই মুসলিম উম্মাহ্র ভিতর আজ এতো দ্বন্দ্ব আর হানাহানির সৃষ্টি
হয়েছে। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ
“নিশ্চয়
যারা নিজেদের দ্বীনকে
খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং
বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত
হয়ে পড়েছে, তাদের সাথে
তোমার কোন সম্পর্ক নেই,
তাদের বিষয়টি নিশ্চয়ই
আল্লাহ্র হাওলায় রয়েছে,
পরিশেষে তিনি তাদেরকে
তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে
অবিহিত করবেন।”
[সূরা আন’আম; ৬:১৫৯]
“কিন্তু
তারা নিজেদের মধ্যে তাদের দ্বীনকে বহুভাগে বিভক্ত করেছে; প্রত্যেক দলই
তাদের নিকট যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত।” [সূরা
মু’মিনূন; ২৩:৫৩]
আর তাই মানুষ
ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃতঅর্থে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবেনা যতক্ষণ না তারা ঈমান এবং আকীদাহ্ সম্পর্কে যথার্থ এবং বিশুদ্ধ উপলব্ধি অর্জন
করতে পেরেছে। এখানেই নিহিত “লা ইলাহা
ইল্লাল্লাহ্”এর তাৎপর্য।
একথার তাৎপর্য উপলব্ধি না করে কারোর পক্ষে ঈমান ও আকীদাহ্গত পরিশুদ্ধি
অর্জন করা সম্ভব নয়। ইসলাম আবির্ভাবের পূর্বে এবং পরে আরবের অবস্থার দিকে
দৃষ্টিপাত করলেই বোঝা যায়“লা
ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর কী ক্ষমতা।
[২] শান্তি ও
নিরাপত্তা অর্জন:
যে
সমাজ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”
এর শিক্ষায় বিশ্বাসী এবং এর শিক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেয় সেই সমাজে বিরাজ
করে শুধুই শান্তি ও নিরাপত্তা। এমন সমাজের প্রতিটি মানুষই কেবলমাত্র সেই
কাজের ব্যপারে যত্নশীল হবে যা আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন তাদের জন্য হালাল
বা বৈধ ঘোষণা করেছেন। পক্ষান্তরে, তারা সেই সমস্ত কাজ পরিহার করে চলবে যা
তিনি হারাম বা অবৈধ ঘোষণা করেছেন। সমাজের প্রতিটি মানুষই তখন তাদের এক ও
অভিন্ন আকীদাহ্ তথা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অনুসরণ করে সকল কাজ-কর্ম সম্পাদন
করবে। কারণ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”
এর দাবী হল, যে কেউ এই কথার মৌখিক স্বীকৃতি দেবে তাকে এর সত্যতা
বাস্তবায়ন করতে হবে কর্মের মাধ্যমে। কর্মহীন মৌখিক ঐ স্বীকৃতি একটি
অন্তঃসার শূন্য স্লোগান ছাড়া কিছুই নয়। কাজেই কালিমার শিক্ষায় বিশ্বাসী
এবং সেই শিক্ষাকে মেনে চলে এমন সমাজের লোকদেরকে দ্বারা কখনও
জুলুম-অত্যাচার, অন্যায়, পারস্পারিক হানাহানি ইত্যাদি সংঘটিত হতে পারেনা।
এমন সমাজের লোকেরা গভীর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সৎকর্ম সম্পাদনের
জন্যে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে এবং ভালবাসবে। আর তাদের এই পারস্পারিক
সহযোগিতা ও ভালবাসা হবে কেবলমাত্র আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীনের জন্যে, তাঁর
সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ
বিষয়টি
অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত সে সব আরবদের জীবনে যারা একসময় ইসলাম
মেনে চলত না। অথচ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”
এর পরশে তাদের জীবনে এসেছিল আমূল পরিবর্তন। ইসলাম পূর্ব সময়ে তাদের জীবন
ছিল পারস্পারিক মারামারি, কাটাকাটি, হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, খুনাখুনি,
লুটতরাজ ইত্যাদিতে জর্জরিত। সেই মানুষগুলোই যখন গ্রহণ করল তখন সব কিছু বদলে
গেল। যারা রক্তের বদলে রক্ত চাইত তারা ইসলামের কারনেই শান্তি সৌহার্দ আর
সম্প্রীতির এক অমায়িক বন্ধনে আবদ্ধ হল। যারা ছিল চরম শত্রু তারাই হল পরম
বন্ধু। এই হল ইসলাম তথা “লা ইলাহা
ইল্লাল্লাহ্” এর ক্ষমতা।
আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ
“মুহাম্মাদ
(সা) আল্লাহ্র রাসূল;
আর যারা এর সাথে
আছে তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে
কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে
পরস্পরে সহানুভূতিশীল...।”
[সূরা ফাত্হ; ৮৪:২৯]
“...এবং
তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র যে নেয়ামত রয়েছে তা স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পর
শত্রু ছিলে তখন তিনিই তোমাদের অন্তঃকরণে প্রীতি স্থাপন করেছিলেন, তৎপরে
তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ হলে...।”
[সূরা আল-ইমরান; ৩:১০৩]
[৩]সুমহান
লক্ষ্য অর্জন:
প্রকৃত সুখ-শান্তি
অর্জন, পৃথিবীতে খেলাফাত (ইসলামিক কর্তৃত্ব ও শাসন ব্যবস্থা) প্রতিষ্ঠা,
ইসলামের বিশুদ্ধ চর্চা এবং সমস্ত রকম বাতিল ও শয়তানি অপশক্তির আক্রমণের
বিরুদ্ধে ধৈর্য এবং নিষ্ঠার সাথে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া- এসবের একটিও
সম্ভব নয় “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”
এর বাস্তবিক প্রয়োগ ছাড়া। আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ
“তোমাদের
মধ্যে যারা ঈমান আনে
ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্
তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
যে, তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে
খেলাফাত (প্রতিনিধিত্ব) অবশ্যই
দান করবেন, যেমন তিনি
(প্রতিনিধিত্ব) দান করেছিলেন
তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং
তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন
তাদের দ্বীনকে যা তিনি
তাদের জন্যে মনোনীত করেছেন
এবং তাদের ভয়-ভীতির
পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই
নিরাপত্তা দান করবেন;
তারা শুধু আমার ইবাদত
করবে, আমার সাথে কাউকে
শরীক করবেনা, অতঃপর যারা
অকৃতজ্ঞ হবে তারা তো
সত্যত্যাগী (ফাসিক) ।”
[সূরা নূর; ২৪:৫৫]
কাজেই আল্লাহ্
রাব্বুল ‘আলামীন উল্লেখিত সুমহান লক্ষ্যসমূহের অর্জনকে আমাদের জন্য
শর্তসাপেক্ষ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ, আমরা এগুলো কেবল মাত্র তখনই অর্জন করতে
সমর্থ হব যখন আমরা শুধু মাত্র এবং কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত এবং আনুগত্য করব,
তাঁর দেয়া বিধানকে প্রশ্নাতীতভাবে মেনে চলব এবং তাঁর সাথে কোন শরীক স্থাপন
করব না। আর এটাই হল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”
এর নিহিত মর্মার্থ।
আল-ইস্তিক্কামাহ্, ইস্যু নং-১
পাদটীকাঃ
[১]
লা ইলাহা ইল্লালাহ্, মা’নাহা,
মাকানাতুহা ওয়া ফাদ্লুহা (পৃষ্ঠা নং:৩৬-৩৯) হতে
সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
লেখিকাঃ নূসরাত
রহমান
আমাদের
জীবনটা ত খুব ছোট। তার মধ্যে এক চতুর্থাংশ চলে যায় বড় হতে, শিখতে,
বুঝতে। বড় হওয়ার পরেও তিন ভাগের একভাগ কাটে ঘুমিয়ে আর নিত্য প্রয়োজনীয়
কাজ সারতেই। বাকি এত অল্প সময়টার মধ্যে পড়াশুনা, চাকুরি, ব্যবসা - এসব
করব কী, সংসার চালাব কী.. আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজই বা করব কী?
আল্লাহর
সন্তুষ্টির জন্য কাজ করাও ত চাট্টিখানি কথা নয়, আগে জানতে ও বুঝতে হবে,
নিয়্যতটাকে পরিষ্কার করতে হবে, তবেই না! এসব করে সেরে মোটামুটি সংসারের
দায়িত্ব সেরে টেরে হিসেব মেলাতে গেলে দেখা যায়, ওমা! কবে জীবনের দুই
তৃতীয়াংশ শেষ করে ফেলেছি, টেরই পাইনি! এখন এই শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে
দানের টাকা দিয়ে ফেলা, একটু বেশি করে তজবি জপা.. সারাদিন জায়নামাজে বসে
থাকা - এসব করতে হয়।
কিন্তু ওসবেও ত সমস্যা। আল্লাহ ত চান
ভারসাম্যপূর্ণ জীবন। যখন যেখানে সুবিধা সেখানে হেলে পড়লে ত আর ভারসাম্য হল
না। আল্লাহ চান আপনি যখন অফিসের কাজে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখনও আল্লাহ কে
খুশি করুন, ছেলে মেয়ে দুটোর পরীক্ষা পরদিন সকালে - সিলেবাস শেষ করাতে
করাতে আল্লাহকে মনে করুন.. এমন। তাহলে কীভাবে হবে?
এজন্যই, আমরা
দিনের একেবারে খুঁটিনাটি ঘটনায় আল্লাহকে এনে ফেললে আর দিন শেষে তজবির উপর
ভরসা করে থাকতে হবে না। এখানে অত্যন্ত সরল সোজা কিছু টিপস্ দেই।
প্রতিদিন
একটু হাঁটা হয়না? হাঁটার সময়টা কী করেন আপনি? পা দিয়ে ত হাঁটাই হয়,
মনটা দিয়ে কী করা হয়? কিছুই না, তাইনা? এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখা, আগের বা
পরের কিছু ভাবা এসবই ত! এখন থেকে হাঁটার ছন্দের সাথে ছোট দু'আ (যেমন
সুব-হা-নাল্-লাহ, ওয়ালহাম-দু-লিল্-লাহ, ওয়ালা-ইলাহা-ইল্লাল্-লাহু,
ওয়াল্-লাহু-আক্ব-বার, অথবা সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল
আযীম) মিলিয়ে পড়তে পড়তে হাঁটবেন। প্রথম প্রথম মনেই থাকবে না পড়ার কথা।
তারপর একটা সময়ে পুরোপুরি প্রোগ্রাম হয়ে যাবে মাথার ভেতর। দিনে কত কদম
হাঁটা হয়? দুহাজার? প্রতি ষোল কদমে যদি একবার করে দু'আটা শেষ করা হয়, দিন
শেষে কতগুলি নেকী জমা পড়ল? কোন কষ্ট ছাড়াই?
এই ত গেল হাঁটা।
গোনাগুনির কাজ করতে হয়না? আটটা ডিম, ছ'টা কলম, তিন তলা, কুড়িটা সিঁড়ি?
এক দুই তিন করে না গুণে 'সুবহানাল্লাহ' 'ওয়ালহামদুলিল্লাহ' 'ওয়া লা ইলাহা
ইল্লাল্লাহু' 'ওয়াল্লাহু আক্ববার' - এভাবে চার চার করে গুণে ফেলুন। একদম
কোন ঝামেলা ছাড়া আরও আট দশবার দুআ
পড়া হয়ে যাবে। গায়েই লাগবেনা।
তারপর নতুন সূরা শেখা হয়না
কতবছর হল? শিখতে চান? পছন্দের তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াতের এমপিথ্রি চালিয়ে
দিয়ে রাখুন মোবাইলে, গাড়িতে, ঘর গুছানোর সময় - গানের মত পুরোটা মাথায়
কপি হয়ে যাবে দু'সপ্তাহ পর। এভাবে শুনে শেখার আরো সুবিধা হচ্ছে উচ্চারণও
শুদ্ধ হবে, কোথায় কতটুকু বিরতি দিতে হবে, সব জানা হয়ে যাবে। এইখানে
ক্লিক করে mp3 তেলাওাত ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
ক্লাসে
যাবেন, বাজারে যাবেন, অফিসে যাবেন, জ্যামে বসে আছেন, মেজাজটা তিরিক্ষি -
সময়টা কাজে লাগান একটা অডিও লেকচার শুনে। সেটা হতে পারে কুরআনের তাফসির,
নবীদের জীবনী, পারিবারিক সম্পর্কের উপর ইসলামিক আলোচনা.. শুধু যে মেজাজ
রক্ষা পাবে তাই না, অলস সময়টাতে অনেক ভাল ভাল চিন্তা মাথায় চলে আসবে।
হঠাৎই হয়ত মনে হবে, 'আরে! এই কাজটা ত করা যায়!' ব্যাস, কোন রিকশাওলা কোন
দিক দিয়ে ঢুকে গেল - এসব দেখে আর মেজাজ খারাপ হবে না। আপনি ত আর আপনার
সময় নষ্ট করছেন না! ওরা যা ইচ্ছে করুক না! এইখানে
ক্লিক করে mp3 audio lecture ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
এগুলো
ছিল একদম কোন আয়াস ছাড়াই সওয়াব কুড়ানোর পদ্ধতি। এবার আসি একটু শ্রম
দিতে হয় এমন কাজে।
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ভাল লাগে? তক্কে
তক্কে থাকুন, কখন অসুস্থ হয় (তাই বলে আবার দোয়া করতে যাবেন না যেন অসুখে
পড়ে); হলেই মিস নেই, দেখতে যান, ফোন করে খোঁজ নিন, অন্য সময়ের চেয়ে
দুইবার বেশি ফোন দিন। শুধু বন্ধুর অসুখই না, বন্ধুর পরিবারের যে কারোর
বেলায়ও। আল্লাহ ভীষণ খুশি হন এসব কাজে। আর তার উপর যদি আল্লাহকে খুশি করার
নিয়্যতে করেন, তাহলে ত ডাবল লাভ!!
দাওয়াতে কোন মুরুব্বী কারও
সাথে দেখা হয়? নানু দাদু শ্রেণীর, যারা পার্টি টার্টিতে চুপচাপ এক কোণে
বসে থাকেন, সবাই দেখা হলে সালাম দিয়ে চলে যায়, কিন্তু কথা বলে না এমন
বয়সের? পাশে গিয়ে বসে কথা বলতে শুরু করুন। এমনভাবে আধা ঘন্টা গল্প করুন,
যাতে তাঁর মনে হয় এই সমাবেশে উনার সাথে সময় কাটিয়েই আপনি সবচেয়ে বেশি
মজা পাচ্ছেন। চলে আসার সময় দেখবেন প্রাণঢালা দোয়ার ওজনে হাঁটতে পারছেন
না।
পরিচিত মানুষজনের সাথে এমনভাবে নরম করে কথা বলা শুরু করুন,
যাতে কেউ সমস্যায় পড়লে আপনার কাছে বলতে ভরসা পায়। তারপর সমাধান করতে
পারেন না পারেন, একটু সুন্দর করে বলুন, 'হ্যা... সত্যিই ত... আসলেই ত
সমস্যা... ধৈর্য ধরে থাকেন ভাই! আপনার ত অনেক ধৈর্য মাশাআল্লাহ!' হয়ে গেল!
সে ভাই খুশি, আল্লাহ খুশি, আপনি খুশি। খুশিই খুশি।
যদি দেখেন কেউ
একটা ভাল উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু কাজটা সুন্দর করে হয়নি দেখে অনেক
সমালোচনা করছে সবাই... খুব উৎসাহ দেখান। বলুন, জিনিসটা খুবই ভাল হয়েছে। সে
যখন উৎসাহে টগবগ করতে থাকবে - তখন না হয় সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে খুঁতগুলো
ঠিক করার পরামর্শ দেবেন। ভাল কাজে এই যে উৎসাহ দিলেন, চালিয়ে যাওয়ার
পরামর্শ দিলেন - এতে করে আল্লাহ সে ভাল কাজের সওয়াবে আপনারও একটা অংশ লিখে
রাখবেন ইনশাআল্লাহ।
ফিরে আসি হাঁটার কথায় আবারো। চাইলে এক জোড়া
গ্লাভস/পলিথিন সাথে করে বের হতে পারেন। রাস্তায় ঠোঙা, পেপসির ক্যান,
পলিথিন পড়ে থাকতে দেখলে তুলে ডাস্টবিনে ফেলে দেবেন। রাস্তার জিনিস পলিথিন
মোড়া হাত দিয়ে ধরলে কিন্তু হাত খসে পড়ে যায় না। আমরা টাকা ধরার সময়
আরো অনেক জীবাণু ধরি। আর ভাববেন না, আমি মিউনিসিপ্যালিটির পয়সা বাঁচানোর
জন্য আপনাকে দিয়ে ফ্রি ফ্রি কাজ করাচ্ছি।
এগুলো সব সদকা।
আখিরাতে ভাল কাজের পাল্লা ভারি করার কিছু ফ্রি টিপস।
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
আল্লাহ
রাব্বুল আলামীন কুরআন নাযিল করেছেন মানুষের জন্য উপদেশ ও জীবন বিধান
হিসাবে। এ লক্ষ্যেই তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার
প্রতি :
'তবে
কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে
তালা রয়েছে?' (মুহাম্মাদ : ২৪)
কুরআন
নিয়ে যতই চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করা হবে অন্তরে কুরআনের আবেদন ও কুরআনের
প্রতি ভক্তি ততই বৃদ্ধি পাবে। মানুষের স্বভাব চরিত্রে, আচার-আচরণে এর
প্রভাব পড়বে। তাই তো আমরা দেখি উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা. কে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি
উত্তর দেন:
كان خلقه
القرآن
'তাঁর চরিত্র ছিল আল কুরআন।'
(মুসলিম)
কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম কুরআনকে নিজের জীবনের পাথেয় হিসেবে নিয়েছিলেন।
এতে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করেছেন এবং নিজ জীবনে তা
পূর্ণাঙ্গরূপেবাস্তবায়ন করেছেন। আমরা আজ কুরআন পাঠ করি কিন্তু তা আমাদের
জীবনে কোনো প্রভাব ফেলে না। আমাদের জীবনাচারে পরিবর্তন সূচিত করে না। কারণ
আমরা কুরআনের মর্ম নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা করি না। আলী রা. বলেছেন, 'যে
কুরআন পাঠে চিন্তা-ভাবনা নেই, সে পাঠে কোনো কল্যাণ নেই।' আব্দুল্লাহ ইবনে
মাসউদ রা. বলেছেন, 'আজ তোমরা সূরা ফাতেহা থেকে নিয়ে শেষ পর্যস্ত এমনভাবে
কুরআন খতম করো যে, একটি হরফও বাদ পড়ে না। কিন্তু বাস্তব কথা হল, সে
অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন বাদ পড়ে যায়।'
আমরা সূরা আল আসর পাঠ করি।
তা মুখস্থও করেছি । জীবনে কতবার যে পাঠ করেছি তার হিসেব তো নিজের কাছেও
নেই; কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি ছোট এই সূরাটির মধ্যে আল্লাহ তাআলা কতগুলি
গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রেখেছেন। কত চমৎকার হেদায়েত রেখেছেন ক্ষুদে এ
সূরাটির মধ্যে। ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির স্পষ্ট সনদ রেখেছেন তিনি মাত্র
তিন আয়াত বিশিষ্ট এ সূরার মধ্যে। সাহাবায়ে কেরামের অনেকের সম্পর্কে
বর্ণিত আছে যে, তারা যখন একজন অপর জনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করতেন তখন সূরা
আল আসর পাঠ করে শুনাতেন। (তাবরানি, হায়সামি ফি মাজমাআয যাওয়ায়েদ)
ইমাম
শাফেয়ী রহ. বলেন, 'আল্লাহ তাআলা যদি কুরআনে অন্য কোনো সূরা নাযিল না করে
শুধু সূরা আল আসর নাযিল করতেন তাহলে এটা মানুষের হেদায়াতের জন্য যথেষ্ট
হত।'(মিফতাহুস সাআদাহ : ইমাম শাফেয়ি)
যদি কেউ এ সূরায় গভীরভাবে
দৃষ্টি দেয় তাহলে সে তাতে একটি উন্নত, সুন্দর, শান্তিময়, পরিপূর্ণ এবং
সবার জন্য কল্যাণকর সমাজের চিত্র দেখতে পাবে। (আদওয়াউল বায়ান : ৯/৫০৭)
আল্লাহ
রাব্বুল আলামীন এ সূরাটি শুরু করেছেন 'ওয়াল আসর' শব্দ দিয়ে। ইরশাদ
হয়েছে-
وَالْعَصْرِ
﴿1﴾
'আসরের শপথ।' (১)
'আসর' বলতে কি বুঝানো হয়েছে?
'আসর'
শব্দের দুটো অর্থ : এক. যুগ বা সময়। দুই. আসরের নামাজের সময়, যার আগমন
হয় জোহরের নামাজের সময় শেষ হওয়ার পর এবং শেষ হয় সূর্যাস্তের মধ্য
দিয়ে। আল্লাহ তাআলা কোনটির শপথ করেছেন? সময়ের শপথ না আসরের ওয়াক্তের
শপথ?
সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত হল তিনি 'আসর' বলতে এখানে সমস্ত সময়ের
শপথ করেছেন। করেছেন যুগের শপথ। আর যুগের গর্ভেই এক জাতির উত্থান ঘটে, অন্য
জাতির ঘটে পতন। রাত্রি আসে। যায় দিন। পরিবর্তিত হয় পরিবেশ ও মানব সমাজ।
এমন সব পরিবর্তন আসে যা মানুষ কল্পনা করতে পারে না। কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত কখনো
বা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পরিবর্তন আসে এ সময়ের ব্যবধানেই। তাই এ যুগ বা
সময় বড় বিস্ময়কর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানব, দানব, জীব-জন্তুসহ তাবৎ
সৃষ্টিকুলের জন্য। এটা বুঝানোর জন্যই আল্লাহ তাআলা সময়ের শপথ করেছেন। (আত
তিবইয়ান ফি আকসামিল বায়ান : ইবনুল কায়্যিম আল জাওযি)
কোনো বস্তু
বা বিষয়ের শপথ করলে তার অস্বাভাবিক গুরুত্ব বুঝায়। সময় এমনই এক
বিস্ময়ের আধার যে, আমরা জানি না অতীতকালে এটা কি কারণে হয়েছে। আমরা জানি
না ভবিষ্যতে কি ঘটতে যাচ্ছে। এমনকি আমাদের নিজেদের জীবন, নিজের পরিবার,
সমাজ, রাষ্ট্র সম্পর্কে আমরা বলতে পারি না যে আগামী কালকের পরিবশেটা ঠিক
আজকের মত থাকবে কি থাকবে না। দেখা যায় মানুষ নিজ সম্পর্কে একটি পরিকল্পনা
নিয়েছে। আগামীকাল এটা সে বাস্তবায়ন করবে। অর্জন করবে এটা সেটা অনেক কিছু।
সে দৃঢ় প্রত্যয়ী থাকে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে। সব উপকরণ থাকে
হাতের নাগালে। সব মাধ্যম ও ফলাফল থাকে আপন নখদর্পনে। কোনো কিছুরই অভাব নেই।
তবুও এ 'সময়' নামক বস্তুটির ব্যবধানে এমন কিছু ঘটে যায় যা তার সব কিছুকে
তছনছ করে দেয়। সে ভাবতেই পারে না- কেন এমন হল। অনেক বড় বড় হিসাব সে
মিলিয়েছে কিন্তু এর হিসাব সে মেলাতে পারছে না। এটাই হল 'সময়'। আল্লাহ
তাআলা এর প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই বলেছেন, 'ওয়াল আসর' - শপথ
সময়ের।
এ থেকে আমরা জীবনের জন্য সময়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারি।
আমাদের মনে রাখতে হবে আল্লাহ হলেন মহান। তিনি মহান বস্তু ব্যতীত অন্য কোনো
কিছুর শপথ করেন না।
তাফসিরবিদ ইকরামাসহ অনেকে বলেছেন, 'আসর' বলতে
এখানে আসরের নামাজের সময়ের শপথ করা হয়েছে। কেননা আসর নামাজের সময়টি খুব
গুরুত্বপূর্ণ। প্রখ্যাত তাফসিরবিদ ইবনে জারির আত তাবারী রহ. বলেছেন, 'সঠিক
কথা হল এখানে 'আসর' বলতে আল্লাহ তাআলা 'সময়' কে বুঝিয়েছেন। যুগের অপর নাম
সময়। সকাল, বিকাল, দুপুর, রাত, দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর, যুগ, শতাব্দী,
সহস্রাব্দ ইত্যাদি সব কিছুই বুঝায় এ 'আসর' বা 'সময়' নামক শব্দ। (জামেউল
বায়ান : ১৫/২৮৯)
যদি এ সূরাটির প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টি দেয়া হয়
তাহলে দেখা যাবে যে, সময়টাকে সকল যুগে টেনে নেয়া হয়েছে। মানুষকে সময়ের
মধ্যে আবদ্ধ করা হয়েছে। সময় ছাড়া মানুষের জীবন যেমন সচল নয়, তেমনি সময়
ব্যতীত তাদের কোনো অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতও নেই।
দ্বিতীয় আয়াত :
إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ ﴿2﴾
'অবশ্যই
মানুষ ক্ষতিতে নিপতিত।'
যদিও এখানে
ইনসান বা মানুষ শব্দটি এক বচনে ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু তার পূর্বে
জাতিবাচক আলিফ লাম ব্যবহার করে পুরো মানব জাতিকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ
পুরো মানবগোষ্ঠি ক্ষতিগ্রস্ত। তারা সকলে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে
যাদের মধ্যে চারটি গুণ আছে তারা ব্যতীত। এ চারটি গুণের অধিকারীরা
ক্ষতিগ্রস্ত নয়। তারা লাভবান সর্বদা। লাভবান ইহকাল ও পরকালে। পরবর্তী
আয়াতে এ চারটি গুণের কথাই বর্ণিত হয়েছে।
'তবে
তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে
এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।'
চারটি
গুণ যাদের মধ্যে থাকবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এক.ঈমান দুই.সৎকাজ বা আমালে
সালেহ তিন.অন্যকে
সত্যের পথে আহবান চার.অন্যকে ধৈর্যের উপদেশ দান
একজন মুসলিম শুধু নিজেকে
নিয়ে ভাবে না। নিজের সুখে সন্তুষ্ট থাকে না। যেমন সে নিজের দুঃখেই শুধু
ব্যথিত হয় না। অন্যের কথা চিন্তা করতে হয় তাকে। অন্যের কল্যাণে কাজ করতে
হয়। অন্যের দুখে দুখী ও অন্যের সুখে সুখী হওয়া তার কর্তব্য। এজন্য এ
চারটি গুণের প্রথম দুটো গুণ নিজের কল্যাণের জন্য আর পরের গুণ দুটো হল
অন্যের কল্যাণের জন্য। প্রথম গুণ দুটো দ্বারা একজন মুসলিম নিজেকে পরিপূর্ণ
করে, আর অপর দুইগুণ দ্বারা অন্যকে পরিপূর্ণ করার প্রয়াস পায়।
প্রথম
গুণটি হল ঈমান। এটা একটা ব্যাপকভিত্তিক আদর্শের নাম। প্রখ্যাত তাফসিরবিদ
মুজাহিদ রহ. বলেছেন, ঈমান হল, আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা, তাঁর
একত্ববাদকে সর্বক্ষেত্রে গ্রহণ করা। তাঁর পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে সবগুলোকে
মেনে নেয়া এবং সর্বক্ষেত্রেই তার কাছে জওয়াব দিতে হবে এ আদর্শ ধারণ করা।
(তাফসিরে তাবারি)
ঈমানের পর নেক আমল বা সৎকর্মের স্থান। সৎকর্ম কম
বেশি সকল মানুষই করে। তবে ঈমান নামক আদর্শ তারা সকলে বহন করে না। ফলে তাদের
আমল বা কর্মগুলো দিয়ে লাভবান হওয়ার পরিবর্তে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে
থাকে। সৎকর্মশীল মানুষগুলো যদি ঈমান নামের আদর্শকে গ্রহণ করে তাহলে এ
সৎকর্ম দ্বারা তারা দুনিয়াতে যেমন লাভবান হবে আখেরাতেও তারা অনন্তকাল ধরে এ
লাভ ভোগ করবে। আর যদি সৎকর্মের সঙ্গে ঈমান নামের আদর্শ না থাকে, তাহলে
সৎকর্ম দিয়ে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে কিছুটা লাভবান হলেও আখেরাতের
স্থায়ী জীবনে এটা তাদের কোনো কল্যাণে আসবে না। এ জন্য আল্লাহ রাব্বুল
আলামীন প্রথমে ঈমানের কথা বলেছেন।
সৎকর্ম হল, যা কিছু ইসলাম করতে
বলেছে সেগুলো পালন করা আর যা কিছু নিষেধ করেছে সেগুলো থেকে বিরত থাকা। হতে
পারে তা ফরজ, ওয়াজেব, সুন্নাত, মুস্তাহাব বা নফল। আর বর্জনীয় বিষয়গুলো
বর্জন করে চলা। হতে পারে তা হারাম, মাকরূহ।
যখন মানুষ ঈমান স্থাপন
করল, তারপর সৎকর্ম করল, তখন সে নিজেকে পরিপূর্ণ করে নিল। নিজেকে লাভ, সফলতা
ও কল্যাণের দিকে পরিচালিত করল। কিন্তু ঈমানদার হিসাবে তার দায়িত্ব কি শেষ
হয়ে গেল? সে কি অন্য মানুষ সম্পর্কে বে-খবর থাকবে? কিভাবে সে এত
স্বার্থপর হবে? অন্য সকলকে কি সে তার যাপিত কল্যাণকর, সফল জীবনের প্রতি
আহবান করবে না? কেনই বা করবে না? সে তো মুসলিম। তাদের আভির্ভাব ঘটানো
হয়েছে তো বিশ্ব মানবের কল্যাণের জন্য। আর এ জন্যই তো মুসলিমরা শ্রেষ্ঠ
জাতি। আল্লাহ তাআলা তো বলেই দিয়েছেন :
'তোমরা
হলে সর্বোত্তম জাতি, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল
কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান
আনবে।' (আলে ইমরান : ১১০)
অতএব নিজেকে
ঠিক করার পর তার দায়িত্ব হবে অন্যকে কল্যাণের পথে আহবান করা। তাই ঈমান ও
সৎকর্ম নামক গুণ দুটো উল্লেখ করার পর আল্লাহ তাআলা আরো দুটো গুণের কথা
বললেন :
وَتَوَاصَوْا
بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
'আর
তারা পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।'
সত্যের দিকে মানুষকে আহবান করা, এ আহবান করতে গিয়ে ও আহবানে
সাড়া দিতে গিয়ে যে সকল বিপদ-মুসিবত, অত্যাচার-নির্যাতন আসবে তাতে ধৈর্য
ধারনের জন্য একে অন্যকে উপদেশ দেয়া কর্তব্য। প্রশ্ন হতে পারে সত্যের
মধ্যেই তো ধৈর্য আছে। ধৈর্য তো হক বা সত্যের একটি। তাহলে এটা আলাদাভাবে
উল্লেখ না করলে কি হত না? কোনো বিষয়ের গুরুত্ব বুঝাতে সাধারণভাবে তা
উল্লেখ করা হলেও আবার বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। পরিভাষায় এটাকে বলা
হয় : ذكر الخاص بعد العام
কোনো বিষয় অর্জন করা সহজ হতে পারে
কিন্তু সেটি ধরে রাখা ও তার ওপর অটল থাকা ততটা সহজ নাও হতে পারে। আর এ
জন্যই প্রয়োজন ধৈর্য ও সবরের।
সূরাথেকেঅর্জিতশিক্ষাওমাসায়েলসমূহ
:
১- এ সূরার মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, চারটি
বিষয় অর্জন করা আমাদের জন্য জরুরি : এক. ইলম বা জ্ঞান অর্জন। ইলম ব্যতীত ঈমান স্থাপন সম্ভব
নয়। ঈমানের জন্য কমপক্ষে তিনটি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। (ক) আল্লাহ
তাআলাকে জানতে হবে। (খ) তাঁর রাসূলকে জানতে হবে। (গ) তাঁর প্রেরিত
দীন-ধর্মকে জানতে হবে। এগুলো জানার পরই তার ওপর ঈমান আনা সম্ভব। ইরশাদ
হয়েছে:
'অতএব
জেনে নাও যে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং তুমি ক্ষমা চাও
তোমার ও মুমিন নারী-পুরুষদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য।' (মুহাম্মাদ :
১৯)
আমরা দেখলাম, এ আয়াতে 'লা-ইলাহা
ইল্লাল্লাহ' এর প্রতি ঈমান আনার পূর্বে জানতে বলেছেন অর্থাৎ ইলম অর্জন করতে
বলেছেন। তারপর ইস্তেগফার তথা আমল করতে বলেছেন। দুই. ইলম অনুযায়ী কাজ করা। তিনটি বিষয়
-আল্লাহ, রাসূল ও দীন সম্পর্কে ইলম অর্জন করে আল্লাহর প্রতি ঈমান স্থাপন
করার পর সেই ইলম বা জ্ঞান অনুযায়ী আমল করতে হবে। তিন. অন্যকে এই ইলম ও আমলের দিকে আহবান
করতে হবে বা দীনে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে হবে। চার. ধৈর্য ধারন করা। ইলম, ঈমান,
আমল ও দাওয়াত দিতে গিয়ে যে সকল বিপদ-মুসীবত, দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হতে
হয়, তাতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে ও অন্যকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিতে হবে।
এছাড়া সকল প্রকার বিপদ মুসিবতে, দুর্যোগ-দুর্বিপাকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে ও
অন্যকে ধৈর্য ধারণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
২- আল্লাহ তাআলা 'আল আসর'
তথা সময়, হায়াত, যুগের শপথ করেছেন। এ শপথের মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে সময় ও
জীবনের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। মানুষের আয়ু কত মূল্যবান তা অনুধাবন করতে
বলেছেন। তেমনি 'আল আসর' এর কসম করে যা বলেছেন সেটারও গুরুত্ব বুঝিয়েছেন
তিনি। আর তা হল; মানুষ ক্ষতিতে নিপতিত। মানুষ ধ্বংসের দিকে ধাবিত। তাই
ক্ষতির পথ ছেড়ে তাকে লাভ ও কল্যাণের পথে আসতে হবে। যারা ক্ষতিগস্ত হচ্ছে
তারা কিন্তু সময়টাকে বর্ণিত কাজগুলোতে লাগাচ্ছে না বলেই তারা ধ্বংসের দিকে
যাচ্ছে।
৩- আল্লাহ তাআলা যুগের শপথ করেছেন। যুগে যুগে যা কিছু ঘটেছে
সেগুলো ইতিহাস। তাতে রয়েছে মানুষের জন্য শিক্ষা ও নসিহত। যুগে যুগে
অত্যাচারী শক্তিধর জাতির পতন ঘটেছে। নির্যাতিত দুর্বল জাতির উত্থান হয়েছে।
এসবই মহান আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর সর্বময় ক্ষমতার প্রমাণ।
৪-
মানুষ দুনিয়াতে আয়ু পার করে বার্ধক্যে উপনীত হয় বটে কিন্তু সে লাভবান
হয় না। তবে যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, মানুষকে সত্যের পথে আহবান
করেছে, ধৈর্য ধারণ করেছে তারা এর ব্যতিক্রম। তারা বৃদ্ধ অক্ষম হয়ে গেলেও
তাদের নামে সৎকর্ম যোগ হতে থাকে। যেমন আবু মুসা আশাআরী রা. থেকে বর্ণিত
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একাধিকবার
বলতে শুনেছি-
إذا كان العبد يعمل عملا صالحا فشغله
عنه مرض أو سفر كتب له كصالح ما كان يعمل وهو صحيح مقيم.
'কোন
মানুষ যখন সৎকর্ম করতে থাকে, পরে তাকে রোগ-ব্যধি পেয়ে বসে অথবা সফর
অবস্থায় থাকে, তখন তার কর্ম বিবরণীতে সে আমলগুলো লেখা হতে থাকে, যেগুলো সে
সুস্থ ও গৃহে থাকাবস্থায় করে আসছিল।' (বুখারি, জিহাদ অধ্যায়)
৫-
মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকভাবে হতে পারে : প্রথম. কুফরি করার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। যেমন আল্লাহ
রাব্বুল আলামীন বলেন :
'আর
অবশ্যই তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে ওহি পাঠানো হয়েছে যে,
তুমি শির্ক করলে তোমার কর্ম নিষ্ফল হবেই। আর অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের
অন্তর্ভুক্ত হবে।' (যুমার : ৬৫)
দ্বিতীয়. মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম
কম হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :
'মানুষের মধ্যে কতক এমন রয়েছে,
যারা দ্বিধার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি তার কোনো কল্যাণ হয় তবে সে
তাতে প্রশান্ত হয়। আর যদি তার কোনো বিপর্যয় ঘটে, তাহলে সে তার আসল
চেহারায় ফিরে যায়। সে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি হল
সুস্পষ্ট ক্ষতি।' (হজ : ১১)
৬- ঈমানের
আভিধানিক অর্থ, সত্যায়ন করা, স্বীকার করা, মেনে নেয়া।
পারিভাষিক
অর্থ, হাদিসে জিবরিলে বর্ণিত ঈমানের যে ছয়টি ভিত্তি আছে তার
সবগুলোর
প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা। একটু বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে বলা যায়, ঈমান
হল : অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা, মুখ দিয়ে স্বীকার করা আর অঙ্গ-প্রতঙ্গ
দিয়ে তা বাস্তবায়ন করা। তাই শুধু বিশ্বাস দিয়ে কাজ হবে না, যদি
না সে বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করা হয়।
৭- আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহি
আনিল মুনকার অর্থাৎ অন্যকে সৎকাজের আদেশ ও অন্যায় থেকে নিষেধ করার গুরুত্ব
অনুধাবন করা যেতে পারে। সত্যের পথে মানুষকে আসার উপদেশ দেয়া মানে সৎকাজের
আদেশ করা। এর জন্য প্রয়োজন হবে ধৈর্যের। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন
লুকমান হাকিমের উপদেশ উল্লেখ করেছেন। সেখানেও এ বিষয়টি দেখা যায়। লুকমান
তার ছেলেকে বলেছিলেন :
'হে
আমার প্রিয় বৎস, সালাত কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজে নিষেধ কর
এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধর। নিশ্চয় এগুলো অন্যতম দৃঢ়
সংকল্পের কাজ।' (লুকমান : ১৭)
৮- আমালে
সালেহ বা সৎকর্মের মধ্যে হুকুকুল্লাহ (আল্লাহর অধিকার) ও হুকুকুল ইবাদ
(মানুষের অধিকার) দুটোই অন্তর্ভুক্ত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির গুরুত্ব
দেয়ায় কাজ হবে না। তাওহিদে বিশ্বাস, ঈমানে কামেল, ইবাদত-বন্দেগি,
ফরজ-ওয়াজিব ও সুন্নাত-মুস্তাহাব আমলগুলো যেমন সৎকর্ম তেমনি পিতা-মাতা,
স্বামী-স্ত্রী, আত্নীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সহকর্মী-সহযাত্রীদের সঙ্গে
সদাচারণ, তাদের অধিকার সংরক্ষণ করাও সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত। দেখুন কুরআনের
বহু স্থানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজের অধিকার বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে
মানুষের অধিকার সংরক্ষণের কথাও বলেছেন :
'তোমরা ইবাদাত কর
আল্লাহর, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার
সঙ্গে, নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে, ইয়াতিম, মিসকিন, নিকট আত্মীয়- প্রতিবেশী,
অনাত্মীয়- প্রতিবেশী, পার্শবর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত
দাস-দাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে যারা দাম্ভিক,
অহঙ্কারী।' (নিসা : ৩৬)
৯- সবর বা
ধৈর্য তিন প্রকার : (ক) আল্লাহর আনুগত্যে ধৈর্য ধারণ করা। তাঁর আদেশ
নির্দেশগুলো মানতে গিয়ে অধৈর্য না হওয়া। এটাকে বলা হয় : الصبر على طاعة
الله
(খ) আল্লাহর অবাধ্য না হওয়ার ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করা। আল্লাহ
তাআলা যা কিছু হারাম করেছেন সেগুলোর ধারে কাছে না গিয়ে ধৈর্য অবলম্বন
করা। এটাকে বলা হয় : الصبر عن معصية الله
(গ) উপস্থিত বিপদ-মুসিবতে
ধৈর্য ধারণ করা। এটাকে বলা হয় : الصبر على أقدار الله
১০- সূরা আল
বালাদেও অন্যকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়ার নির্দেশ এসেছে, সেখানে এর সঙ্গে
আরও একটি বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। যেমন :
'অতঃপর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়,
যারা ঈমান এনেছে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় ধৈর্য ধারণের, আর পরস্পরকে উপদেশ
দেয় দয়া-অনুগ্রহের। তারাই সৌভাগ্যবান।'
এ
আয়াতে মুমিনদের গুণাবলি উল্লেখ করতে গিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন,
তারা ধৈর্য ধারণ আর পরস্পরকে দয়া-অনুগ্রহ করার উপদেশ দেয়।
তারা
ডানদিকের দল। তাই একজন মুমিন যেমন নিজে ধৈর্য ধারণ করে ও অন্যকে ধৈর্য
ধারণের উপদেশ দেয়, তেমনি সে নিজে দয়া অনুগ্রহ করে ও অন্যকে দয়া অনুগ্রহ
করতে উদ্বুদ্ধ করে।
আল্লাহ আমাদেরকে সূরা আল আসরের শিক্ষাসমূহ
বাস্তবায়নের জন্য তাউফিক দান করুন।
শাইখ
আব্দুল আজীজ ইবন আবদুল্লাহ ইবনে বা’য (রহ) বলেন: আল্লাহ সকল
মানুষকে ইসলামে প্রবেশ করে এর সাথে লেগে থাকতে বলেছেন এবং ইসলামের বিপরীত
যে কোন কিছু থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি তার নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে পাঠিয়েছেন মানুষকে ইসলামের পথে ডাকার জন্য। তিনি
বলেন যে যারা নবীর অণুসরন করবে তারা সুপথ প্রাপ্ত হবে এবং যারা তার থেকে
দূরে সরে যাবে তারা বিপথগামী হবে। কোরআনের বহু আয়াতে তিনি ধর্মত্যাগের
ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন সকল প্রকার শির্ক ও কুফরি
থেকে।
স্কলাররা ধর্মত্যাগের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, একজন
মুসলিম ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয় এমন কোন কাজ করলে যা ইসলামবিরোধী। ইসলামকে
অকার্যকর করে দেয় এমন কোন কাজ একজন ব্যাক্তিকে ইসলামের সীমা থেকে দূরে
সরিয়ে দেয়। (ইসলামের সত্যতার অকাট্য প্রমাণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এবং
তাকে পুন:পুন: স্পষ্টভাবে বুঝানো সত্যেও) একজন ব্যাক্তি যদি ইসলামচ্যুত তথা
মূর্তাদ হয়ে যায় তবে ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে তার শাস্তি হল মৃত্যুদ্ন্ড
এবং তার সম্পদ সিজ করে নেয়া । এর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং কমন
বিষয় হল দশটি যা মুহামাদ্দ বিন সুলেয়মান আত-তামীমী ও অন্যান্য স্কলার
দ্বারা বর্ণিত। এখানে সংক্ষিপ্ত ভাবে এ বিষয় গুলো পেশ করা হল এই আশায় যে
আপনারা ইসলামচ্যুতির ভয় থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন। ১- শিরক তথা আল্লাহর সাথে তাঁর
ইবাদাতে অন্য কাউকে অংশীদার বানানো। “নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর
সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে
শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়”। (আন-নিসা’ ৪:১১৬)
“নিশ্চয় যে
ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম
করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী
নেই”। (মা’য়িদাহ ৫: ৭২)
এর মধ্যে আছে মৃতদের কাছে,
জ্বীনদের কাছে বা কবরে প্রার্থনা করা, তাদের সাহায্য খোজা, তাদেরকে
উদ্দেশ্য করে মানত
করা ও কোরবানী করা। ২-
যারা আল্লাহ ও তার
মধ্যে যোগাযোগের মধ্যস্থতাকারী (intermediary) রুপে কাউকে বা কোন জিনিসকে
বেছে নেয়, তাদেরকে যোগাযোগের মাধ্যম হতে বলে এবং তাদের উপরেই তার আস্থা
স্থাপন করে (অর্থাৎ সরাসরি আল্লাহর কাছে চায় না এবং নিজের ঐকান্তিকতার উপর
আস্থা স্হাপন করে না) তাদের ব্যাপারে আলেমদের ঐক্যমত হল এই যে, এরা কাফের । ৩-
যারা অংশীদারস্থাপনকারীদের(মুশরিকুন) অস্বীকারকারী(কাফির) মনে করে না,
অথবা তাদের কুফরী সন্মন্ধে সন্দেহ পোষন করে অথবা তাদের পদ্ধতিকেও সঠিক মনে
করে তারা কাফির। ৪- যারা মনে করে নবী (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রশিক্ষন ছাড়া অন্য কিছু বেশী পূর্নাঙ্গ, অথবা
তাঁর নিয়মকানুনের চেয়ে অন্য কোন নিয়মকানুন উত্তম - তারা কাফির। ৫-
যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনীত বিধানের কোন একটি অংশকে
ঘৃণা করে, যদিও বা বাধ্য হয়ে সে তা পালন করছে, সে কাফির। কেননা আল্লাহ
বলেন: “এটা এজন্যে
যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, আল্লাহ তাদের
কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন” (মুহাম্মাদ ৪৭: ৯) ৬-
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচারিত ধর্মের যে কোন
বিষয় নিয়ে কেউ যদি মজা করে, অথবা পুরস্কার ও শাস্তি সম্পর্কিত যে কোন
বক্তব্য নিয়ে টিটকারী দেয় বা দুষ্টুমি করে, সে কাফির। এর প্রমাণ হল নিচের
আয়াতটি: “আর যদি তুমি
তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক
করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং
তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান
প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে
অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার” (আত তাওবাহ
৯:৬৫-৬৬) ৭-
যাদুবিদ্যা – একজন ব্যক্তিকে আরেকজনের বিরুদ্ধে লাগিয়ে
দেয়ার জন্য বা একজন ব্যক্তির সাথে অন্য ব্যক্তির ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য
যাদু করা এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। যে ব্যক্তি এগুলো করবে বা এগুলোর সমর্থন
করবে সে কাফির। কেননা: “তারা
ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি
করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে
জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ
হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত
না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না”।
(বাকারাহ ২: ১০২) ৮- মুশরিকদের সমর্থন দেয়া
এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সহযোগিতা করা। এর প্রমাণ হল এ আয়াতটি
যেখানে আল্লাহ বলেন: “হে
মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা
একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই
অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না” (মা’য়িদাহ
৫:৫১) ৯-
যারা বিশ্বাস করে যে কিছু ব্যক্তিদের মুহাম্মদ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আইনের বাইরে কাজ করার অনুমতি আছে
যেমন অনুমতি ছিল মুসা (আ) এর আইনের বাইরে খিযির (আ) এর কাজ করার, তারা
কাফির। কেননা আল্লাহ বলেন: “যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ
করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত” । (ইমরান ৩: ৮৫) ১০-
আল্লাহর মনোনীত ধর্ম থেকে দূরে সরে যাওয়া বা মুখ ফিরিয়ে নেয়া, এটাকে না
শেখা এবং এর অনুসারে জীবন যাপন না করা। এর প্রমান হল:
“যে ব্যক্তিকে তার পালনকর্তার আয়াতসমূহ
দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে
যালেম আর কে? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব” (সেজদাহ ৩২:২২)
এ
সকল কর্মকান্ড একজন ব্যক্তির জীবনে ইসলামকে অকার্যকর করে দেয় তা সে কৌতুক
করেই থাকুক বা নিষ্ঠাবান হয়েই করুক বা হোক সে ধর্মভীরু। যদি তাকে বাধ্য
না করা হয়ে থাকে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। উপরের প্রত্যেকটি অত্যন্ত
সাঙ্ঘাতিক এবং এ ধরণের ঘটনা অনেক হয়ে থাকে। মুসলিমদের এ ব্যাপারে সচেতন
থাকা এবং এই অপরাধগুলোর মধ্যে জড়িয়ে পড়ার ভয়ে ভীত থাকা উচিৎ। আল্লাহর
কাছে আমরা এ বিষয়গুলো থেকে নিরাপদে থাকার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি এবং
সাহায্য প্রার্থনা করি তার ক্রোধ ও কঠিন শাস্তি থেকে। মুহাম্মদ (সা) ও তার
পরিবারের উপর এবং তার সহযোগীদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
উপরিউক্ত
৪ নং পয়েন্টে তারাও অন্তর্ভূক্ত যারা বিশ্বাস করে যে ইসলামী শরীয়াহ
ব্যতীত অন্য কোন মানবরচিত বিধান বা মতবাদ বেশী কল্যাণকর অথবা সমকক্ষ; অথবা
এটা বিশ্বাস করে যে, ইসলামী শরীয়াহর আশ্রয় নেয়া উত্তম জানা সত্ত্বেও
অন্য কোন আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ আছে; অথবা মনে করে যে একবিংশ শতাব্দীতে
ইসলামীক সিস্টেম প্রয়োগ করা সম্ভব নয়; অথবা মনে করে যে মুসলিমদের
পশ্চাৎপদতার জন্য ইসলাম দায়ী; অথবা মনে করে যে এটা শুধুমাত্র একজন
ব্যক্তির ব্যাক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ তার জীবনের অন্য কোন পর্যায়ে এটা
মানা প্রয়োজন নাই।
উপরিউক্ত ৪ নং পয়েন্টে আরও
অন্তর্ভূক্ত হল যারা মনে করে, আল্লাহর হুকুম পালন করতে গিয়ে চোরের হাত
কাটা বা বিবাহিত ব্যাভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করা আধুনিক যুগে যথাযথ নয়।
এর
মধ্যে আরও আছে, তারা যারা মনে করে যে শারীয়াহর আইন অন্য যে কোন আইন থেকে
উত্তম অথচ বিশ্বাস করে যে এরপরও অন্য আইন অনুযায়ী শাসন করার সুযোগ আছে,
কেননা এভাবে সে সেটাকে হালাম মনে করল যেটা আলেমদের ঐক্যমত অনুযায়ী আল্লাহ
হারাম করেছেন। আল্লাহর কাছে আমরা এ বিষয়গুলো থেকে নিরাপদে থাকার জন্য
সাহায্য প্রার্থনা করি এবং সাহায্য প্রার্থনা করি তার ক্রোধ ও কঠিন শাস্তি
থেকে। মুহাম্মদ (সা) ও তার পরিবারের উপর এবং তার সহযোগীদের উপর আল্লাহর
রহমত বর্ষিত হোক।
শাইখ
আব্দুল আজীজ ইবন আবদুল্লাহ ইবনে বা’য (রহ) বলেন: আল্লাহ সকল
মানুষকে ইসলামে প্রবেশ করে এর সাথে লেগে থাকতে বলেছেন এবং ইসলামের বিপরীত
যে কোন কিছু থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি তার নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে পাঠিয়েছেন মানুষকে ইসলামের পথে ডাকার জন্য। তিনি
বলেন যে যারা নবীর অণুসরন করবে তারা সুপথ প্রাপ্ত হবে এবং যারা তার থেকে
দূরে সরে যাবে তারা বিপথগামী হবে। কোরআনের বহু আয়াতে তিনি ধর্মত্যাগের
ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন সকল প্রকার শির্ক ও কুফরি
থেকে।
স্কলাররা ধর্মত্যাগের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, একজন
মুসলিম ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয় এমন কোন কাজ করলে যা ইসলামবিরোধী। ইসলামকে
অকার্যকর করে দেয় এমন কোন কাজ একজন ব্যাক্তিকে ইসলামের সীমা থেকে দূরে
সরিয়ে দেয়। (ইসলামের সত্যতার অকাট্য প্রমাণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এবং
তাকে পুন:পুন: স্পষ্টভাবে বুঝানো সত্যেও) একজন ব্যাক্তি যদি ইসলামচ্যুত তথা
মূর্তাদ হয়ে যায় তবে ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে তার শাস্তি হল মৃত্যুদ্ন্ড
এবং তার সম্পদ সিজ করে নেয়া । এর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং কমন
বিষয় হল দশটি যা মুহামাদ্দ বিন সুলেয়মান আত-তামীমী ও অন্যান্য স্কলার
দ্বারা বর্ণিত। এখানে সংক্ষিপ্ত ভাবে এ বিষয় গুলো পেশ করা হল এই আশায় যে
আপনারা ইসলামচ্যুতির ভয় থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন। ১- শিরক তথা আল্লাহর সাথে তাঁর
ইবাদাতে অন্য কাউকে অংশীদার বানানো। “নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর
সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে
শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়”। (আন-নিসা’ ৪:১১৬)
“নিশ্চয় যে
ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম
করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী
নেই”। (মা’য়িদাহ ৫: ৭২)
এর মধ্যে আছে মৃতদের কাছে,
জ্বীনদের কাছে বা কবরে প্রার্থনা করা, তাদের সাহায্য খোজা, তাদেরকে
উদ্দেশ্য করে মানত
করা ও কোরবানী করা। ২-
যারা আল্লাহ ও তার
মধ্যে যোগাযোগের মধ্যস্থতাকারী (intermediary) রুপে কাউকে বা কোন জিনিসকে
বেছে নেয়, তাদেরকে যোগাযোগের মাধ্যম হতে বলে এবং তাদের উপরেই তার আস্থা
স্থাপন করে (অর্থাৎ সরাসরি আল্লাহর কাছে চায় না এবং নিজের ঐকান্তিকতার উপর
আস্থা স্হাপন করে না) তাদের ব্যাপারে আলেমদের ঐক্যমত হল এই যে, এরা কাফের । ৩-
যারা অংশীদারস্থাপনকারীদের(মুশরিকুন) অস্বীকারকারী(কাফির) মনে করে না,
অথবা তাদের কুফরী সন্মন্ধে সন্দেহ পোষন করে অথবা তাদের পদ্ধতিকেও সঠিক মনে
করে তারা কাফির। ৪- যারা মনে করে নবী (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রশিক্ষন ছাড়া অন্য কিছু বেশী পূর্নাঙ্গ, অথবা
তাঁর নিয়মকানুনের চেয়ে অন্য কোন নিয়মকানুন উত্তম - তারা কাফির। ৫-
যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনীত বিধানের কোন একটি অংশকে
ঘৃণা করে, যদিও বা বাধ্য হয়ে সে তা পালন করছে, সে কাফির। কেননা আল্লাহ
বলেন: “এটা এজন্যে
যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, আল্লাহ তাদের
কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন” (মুহাম্মাদ ৪৭: ৯) ৬-
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচারিত ধর্মের যে কোন
বিষয় নিয়ে কেউ যদি মজা করে, অথবা পুরস্কার ও শাস্তি সম্পর্কিত যে কোন
বক্তব্য নিয়ে টিটকারী দেয় বা দুষ্টুমি করে, সে কাফির। এর প্রমাণ হল নিচের
আয়াতটি: “আর যদি তুমি
তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক
করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং
তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান
প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে
অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার” (আত তাওবাহ
৯:৬৫-৬৬) ৭-
যাদুবিদ্যা – একজন ব্যক্তিকে আরেকজনের বিরুদ্ধে লাগিয়ে
দেয়ার জন্য বা একজন ব্যক্তির সাথে অন্য ব্যক্তির ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য
যাদু করা এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। যে ব্যক্তি এগুলো করবে বা এগুলোর সমর্থন
করবে সে কাফির। কেননা: “তারা
ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি
করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে
জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ
হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত
না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না”।
(বাকারাহ ২: ১০২) ৮- মুশরিকদের সমর্থন দেয়া
এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সহযোগিতা করা। এর প্রমাণ হল এ আয়াতটি
যেখানে আল্লাহ বলেন: “হে
মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা
একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই
অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না” (মা’য়িদাহ
৫:৫১) ৯-
যারা বিশ্বাস করে যে কিছু ব্যক্তিদের মুহাম্মদ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আইনের বাইরে কাজ করার অনুমতি আছে
যেমন অনুমতি ছিল মুসা (আ) এর আইনের বাইরে খিযির (আ) এর কাজ করার, তারা
কাফির। কেননা আল্লাহ বলেন: “যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ
করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত” । (ইমরান ৩: ৮৫) ১০-
আল্লাহর মনোনীত ধর্ম থেকে দূরে সরে যাওয়া বা মুখ ফিরিয়ে নেয়া, এটাকে না
শেখা এবং এর অনুসারে জীবন যাপন না করা। এর প্রমান হল:
“যে ব্যক্তিকে তার পালনকর্তার আয়াতসমূহ
দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে
যালেম আর কে? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব” (সেজদাহ ৩২:২২)
এ
সকল কর্মকান্ড একজন ব্যক্তির জীবনে ইসলামকে অকার্যকর করে দেয় তা সে কৌতুক
করেই থাকুক বা নিষ্ঠাবান হয়েই করুক বা হোক সে ধর্মভীরু। যদি তাকে বাধ্য
না করা হয়ে থাকে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। উপরের প্রত্যেকটি অত্যন্ত
সাঙ্ঘাতিক এবং এ ধরণের ঘটনা অনেক হয়ে থাকে। মুসলিমদের এ ব্যাপারে সচেতন
থাকা এবং এই অপরাধগুলোর মধ্যে জড়িয়ে পড়ার ভয়ে ভীত থাকা উচিৎ। আল্লাহর
কাছে আমরা এ বিষয়গুলো থেকে নিরাপদে থাকার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি এবং
সাহায্য প্রার্থনা করি তার ক্রোধ ও কঠিন শাস্তি থেকে। মুহাম্মদ (সা) ও তার
পরিবারের উপর এবং তার সহযোগীদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
উপরিউক্ত
৪ নং পয়েন্টে তারাও অন্তর্ভূক্ত যারা বিশ্বাস করে যে ইসলামী শরীয়াহ
ব্যতীত অন্য কোন মানবরচিত বিধান বা মতবাদ বেশী কল্যাণকর অথবা সমকক্ষ; অথবা
এটা বিশ্বাস করে যে, ইসলামী শরীয়াহর আশ্রয় নেয়া উত্তম জানা সত্ত্বেও
অন্য কোন আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ আছে; অথবা মনে করে যে একবিংশ শতাব্দীতে
ইসলামীক সিস্টেম প্রয়োগ করা সম্ভব নয়; অথবা মনে করে যে মুসলিমদের
পশ্চাৎপদতার জন্য ইসলাম দায়ী; অথবা মনে করে যে এটা শুধুমাত্র একজন
ব্যক্তির ব্যাক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ তার জীবনের অন্য কোন পর্যায়ে এটা
মানা প্রয়োজন নাই।
উপরিউক্ত ৪ নং পয়েন্টে আরও
অন্তর্ভূক্ত হল যারা মনে করে, আল্লাহর হুকুম পালন করতে গিয়ে চোরের হাত
কাটা বা বিবাহিত ব্যাভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করা আধুনিক যুগে যথাযথ নয়।
এর
মধ্যে আরও আছে, তারা যারা মনে করে যে শারীয়াহর আইন অন্য যে কোন আইন থেকে
উত্তম অথচ বিশ্বাস করে যে এরপরও অন্য আইন অনুযায়ী শাসন করার সুযোগ আছে,
কেননা এভাবে সে সেটাকে হালাম মনে করল যেটা আলেমদের ঐক্যমত অনুযায়ী আল্লাহ
হারাম করেছেন। আল্লাহর কাছে আমরা এ বিষয়গুলো থেকে নিরাপদে থাকার জন্য
সাহায্য প্রার্থনা করি এবং সাহায্য প্রার্থনা করি তার ক্রোধ ও কঠিন শাস্তি
থেকে। মুহাম্মদ (সা) ও তার পরিবারের উপর এবং তার সহযোগীদের উপর আল্লাহর
রহমত বর্ষিত হোক।
শাইখ
আব্দুল আজীজ ইবন আবদুল্লাহ ইবনে বা’য (রহ) বলেন: আল্লাহ সকল
মানুষকে ইসলামে প্রবেশ করে এর সাথে লেগে থাকতে বলেছেন এবং ইসলামের বিপরীত
যে কোন কিছু থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি তার নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে পাঠিয়েছেন মানুষকে ইসলামের পথে ডাকার জন্য। তিনি
বলেন যে যারা নবীর অণুসরন করবে তারা সুপথ প্রাপ্ত হবে এবং যারা তার থেকে
দূরে সরে যাবে তারা বিপথগামী হবে। কোরআনের বহু আয়াতে তিনি ধর্মত্যাগের
ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন সকল প্রকার শির্ক ও কুফরি
থেকে।
স্কলাররা ধর্মত্যাগের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, একজন
মুসলিম ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয় এমন কোন কাজ করলে যা ইসলামবিরোধী। ইসলামকে
অকার্যকর করে দেয় এমন কোন কাজ একজন ব্যাক্তিকে ইসলামের সীমা থেকে দূরে
সরিয়ে দেয়। (ইসলামের সত্যতার অকাট্য প্রমাণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এবং
তাকে পুন:পুন: স্পষ্টভাবে বুঝানো সত্যেও) একজন ব্যাক্তি যদি ইসলামচ্যুত তথা
মূর্তাদ হয়ে যায় তবে ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে তার শাস্তি হল মৃত্যুদ্ন্ড
এবং তার সম্পদ সিজ করে নেয়া । এর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং কমন
বিষয় হল দশটি যা মুহামাদ্দ বিন সুলেয়মান আত-তামীমী ও অন্যান্য স্কলার
দ্বারা বর্ণিত। এখানে সংক্ষিপ্ত ভাবে এ বিষয় গুলো পেশ করা হল এই আশায় যে
আপনারা ইসলামচ্যুতির ভয় থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন। ১- শিরক তথা আল্লাহর সাথে তাঁর
ইবাদাতে অন্য কাউকে অংশীদার বানানো। “নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর
সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে
শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়”। (আন-নিসা’ ৪:১১৬)
“নিশ্চয় যে
ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম
করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী
নেই”। (মা’য়িদাহ ৫: ৭২)
এর মধ্যে আছে মৃতদের কাছে,
জ্বীনদের কাছে বা কবরে প্রার্থনা করা, তাদের সাহায্য খোজা, তাদেরকে
উদ্দেশ্য করে মানত
করা ও কোরবানী করা। ২-
যারা আল্লাহ ও তার
মধ্যে যোগাযোগের মধ্যস্থতাকারী (intermediary) রুপে কাউকে বা কোন জিনিসকে
বেছে নেয়, তাদেরকে যোগাযোগের মাধ্যম হতে বলে এবং তাদের উপরেই তার আস্থা
স্থাপন করে (অর্থাৎ সরাসরি আল্লাহর কাছে চায় না এবং নিজের ঐকান্তিকতার উপর
আস্থা স্হাপন করে না) তাদের ব্যাপারে আলেমদের ঐক্যমত হল এই যে, এরা কাফের । ৩-
যারা অংশীদারস্থাপনকারীদের(মুশরিকুন) অস্বীকারকারী(কাফির) মনে করে না,
অথবা তাদের কুফরী সন্মন্ধে সন্দেহ পোষন করে অথবা তাদের পদ্ধতিকেও সঠিক মনে
করে তারা কাফির। ৪- যারা মনে করে নবী (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রশিক্ষন ছাড়া অন্য কিছু বেশী পূর্নাঙ্গ, অথবা
তাঁর নিয়মকানুনের চেয়ে অন্য কোন নিয়মকানুন উত্তম - তারা কাফির। ৫-
যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনীত বিধানের কোন একটি অংশকে
ঘৃণা করে, যদিও বা বাধ্য হয়ে সে তা পালন করছে, সে কাফির। কেননা আল্লাহ
বলেন: “এটা এজন্যে
যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, আল্লাহ তাদের
কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন” (মুহাম্মাদ ৪৭: ৯) ৬-
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচারিত ধর্মের যে কোন
বিষয় নিয়ে কেউ যদি মজা করে, অথবা পুরস্কার ও শাস্তি সম্পর্কিত যে কোন
বক্তব্য নিয়ে টিটকারী দেয় বা দুষ্টুমি করে, সে কাফির। এর প্রমাণ হল নিচের
আয়াতটি: “আর যদি তুমি
তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক
করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং
তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান
প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে
অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার” (আত তাওবাহ
৯:৬৫-৬৬) ৭-
যাদুবিদ্যা – একজন ব্যক্তিকে আরেকজনের বিরুদ্ধে লাগিয়ে
দেয়ার জন্য বা একজন ব্যক্তির সাথে অন্য ব্যক্তির ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য
যাদু করা এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। যে ব্যক্তি এগুলো করবে বা এগুলোর সমর্থন
করবে সে কাফির। কেননা: “তারা
ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি
করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে
জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ
হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত
না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না”।
(বাকারাহ ২: ১০২) ৮- মুশরিকদের সমর্থন দেয়া
এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সহযোগিতা করা। এর প্রমাণ হল এ আয়াতটি
যেখানে আল্লাহ বলেন: “হে
মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা
একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই
অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না” (মা’য়িদাহ
৫:৫১) ৯-
যারা বিশ্বাস করে যে কিছু ব্যক্তিদের মুহাম্মদ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আইনের বাইরে কাজ করার অনুমতি আছে
যেমন অনুমতি ছিল মুসা (আ) এর আইনের বাইরে খিযির (আ) এর কাজ করার, তারা
কাফির। কেননা আল্লাহ বলেন: “যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ
করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত” । (ইমরান ৩: ৮৫) ১০-
আল্লাহর মনোনীত ধর্ম থেকে দূরে সরে যাওয়া বা মুখ ফিরিয়ে নেয়া, এটাকে না
শেখা এবং এর অনুসারে জীবন যাপন না করা। এর প্রমান হল:
“যে ব্যক্তিকে তার পালনকর্তার আয়াতসমূহ
দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে
যালেম আর কে? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব” (সেজদাহ ৩২:২২)
এ
সকল কর্মকান্ড একজন ব্যক্তির জীবনে ইসলামকে অকার্যকর করে দেয় তা সে কৌতুক
করেই থাকুক বা নিষ্ঠাবান হয়েই করুক বা হোক সে ধর্মভীরু। যদি তাকে বাধ্য
না করা হয়ে থাকে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। উপরের প্রত্যেকটি অত্যন্ত
সাঙ্ঘাতিক এবং এ ধরণের ঘটনা অনেক হয়ে থাকে। মুসলিমদের এ ব্যাপারে সচেতন
থাকা এবং এই অপরাধগুলোর মধ্যে জড়িয়ে পড়ার ভয়ে ভীত থাকা উচিৎ। আল্লাহর
কাছে আমরা এ বিষয়গুলো থেকে নিরাপদে থাকার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি এবং
সাহায্য প্রার্থনা করি তার ক্রোধ ও কঠিন শাস্তি থেকে। মুহাম্মদ (সা) ও তার
পরিবারের উপর এবং তার সহযোগীদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
উপরিউক্ত
৪ নং পয়েন্টে তারাও অন্তর্ভূক্ত যারা বিশ্বাস করে যে ইসলামী শরীয়াহ
ব্যতীত অন্য কোন মানবরচিত বিধান বা মতবাদ বেশী কল্যাণকর অথবা সমকক্ষ; অথবা
এটা বিশ্বাস করে যে, ইসলামী শরীয়াহর আশ্রয় নেয়া উত্তম জানা সত্ত্বেও
অন্য কোন আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ আছে; অথবা মনে করে যে একবিংশ শতাব্দীতে
ইসলামীক সিস্টেম প্রয়োগ করা সম্ভব নয়; অথবা মনে করে যে মুসলিমদের
পশ্চাৎপদতার জন্য ইসলাম দায়ী; অথবা মনে করে যে এটা শুধুমাত্র একজন
ব্যক্তির ব্যাক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ তার জীবনের অন্য কোন পর্যায়ে এটা
মানা প্রয়োজন নাই।
উপরিউক্ত ৪ নং পয়েন্টে আরও
অন্তর্ভূক্ত হল যারা মনে করে, আল্লাহর হুকুম পালন করতে গিয়ে চোরের হাত
কাটা বা বিবাহিত ব্যাভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করা আধুনিক যুগে যথাযথ নয়।
এর
মধ্যে আরও আছে, তারা যারা মনে করে যে শারীয়াহর আইন অন্য যে কোন আইন থেকে
উত্তম অথচ বিশ্বাস করে যে এরপরও অন্য আইন অনুযায়ী শাসন করার সুযোগ আছে,
কেননা এভাবে সে সেটাকে হালাম মনে করল যেটা আলেমদের ঐক্যমত অনুযায়ী আল্লাহ
হারাম করেছেন। আল্লাহর কাছে আমরা এ বিষয়গুলো থেকে নিরাপদে থাকার জন্য
সাহায্য প্রার্থনা করি এবং সাহায্য প্রার্থনা করি তার ক্রোধ ও কঠিন শাস্তি
থেকে। মুহাম্মদ (সা) ও তার পরিবারের উপর এবং তার সহযোগীদের উপর আল্লাহর
রহমত বর্ষিত হোক।
শাইখ
আব্দুল আজীজ ইবন আবদুল্লাহ ইবনে বা’য (রহ) বলেন: আল্লাহ সকল
মানুষকে ইসলামে প্রবেশ করে এর সাথে লেগে থাকতে বলেছেন এবং ইসলামের বিপরীত
যে কোন কিছু থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি তার নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে পাঠিয়েছেন মানুষকে ইসলামের পথে ডাকার জন্য। তিনি
বলেন যে যারা নবীর অণুসরন করবে তারা সুপথ প্রাপ্ত হবে এবং যারা তার থেকে
দূরে সরে যাবে তারা বিপথগামী হবে। কোরআনের বহু আয়াতে তিনি ধর্মত্যাগের
ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন সকল প্রকার শির্ক ও কুফরি
থেকে।
স্কলাররা ধর্মত্যাগের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, একজন
মুসলিম ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয় এমন কোন কাজ করলে যা ইসলামবিরোধী। ইসলামকে
অকার্যকর করে দেয় এমন কোন কাজ একজন ব্যাক্তিকে ইসলামের সীমা থেকে দূরে
সরিয়ে দেয়। (ইসলামের সত্যতার অকাট্য প্রমাণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এবং
তাকে পুন:পুন: স্পষ্টভাবে বুঝানো সত্যেও) একজন ব্যাক্তি যদি ইসলামচ্যুত তথা
মূর্তাদ হয়ে যায় তবে ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে তার শাস্তি হল মৃত্যুদ্ন্ড
এবং তার সম্পদ সিজ করে নেয়া । এর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং কমন
বিষয় হল দশটি যা মুহামাদ্দ বিন সুলেয়মান আত-তামীমী ও অন্যান্য স্কলার
দ্বারা বর্ণিত। এখানে সংক্ষিপ্ত ভাবে এ বিষয় গুলো পেশ করা হল এই আশায় যে
আপনারা ইসলামচ্যুতির ভয় থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন। ১- শিরক তথা আল্লাহর সাথে তাঁর
ইবাদাতে অন্য কাউকে অংশীদার বানানো। “নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর
সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে
শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়”। (আন-নিসা’ ৪:১১৬)
“নিশ্চয় যে
ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম
করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী
নেই”। (মা’য়িদাহ ৫: ৭২)
এর মধ্যে আছে মৃতদের কাছে,
জ্বীনদের কাছে বা কবরে প্রার্থনা করা, তাদের সাহায্য খোজা, তাদেরকে
উদ্দেশ্য করে মানত
করা ও কোরবানী করা। ২-
যারা আল্লাহ ও তার
মধ্যে যোগাযোগের মধ্যস্থতাকারী (intermediary) রুপে কাউকে বা কোন জিনিসকে
বেছে নেয়, তাদেরকে যোগাযোগের মাধ্যম হতে বলে এবং তাদের উপরেই তার আস্থা
স্থাপন করে (অর্থাৎ সরাসরি আল্লাহর কাছে চায় না এবং নিজের ঐকান্তিকতার উপর
আস্থা স্হাপন করে না) তাদের ব্যাপারে আলেমদের ঐক্যমত হল এই যে, এরা কাফের । ৩-
যারা অংশীদারস্থাপনকারীদের(মুশরিকুন) অস্বীকারকারী(কাফির) মনে করে না,
অথবা তাদের কুফরী সন্মন্ধে সন্দেহ পোষন করে অথবা তাদের পদ্ধতিকেও সঠিক মনে
করে তারা কাফির। ৪- যারা মনে করে নবী (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রশিক্ষন ছাড়া অন্য কিছু বেশী পূর্নাঙ্গ, অথবা
তাঁর নিয়মকানুনের চেয়ে অন্য কোন নিয়মকানুন উত্তম - তারা কাফির। ৫-
যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনীত বিধানের কোন একটি অংশকে
ঘৃণা করে, যদিও বা বাধ্য হয়ে সে তা পালন করছে, সে কাফির। কেননা আল্লাহ
বলেন: “এটা এজন্যে
যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, আল্লাহ তাদের
কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন” (মুহাম্মাদ ৪৭: ৯) ৬-
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচারিত ধর্মের যে কোন
বিষয় নিয়ে কেউ যদি মজা করে, অথবা পুরস্কার ও শাস্তি সম্পর্কিত যে কোন
বক্তব্য নিয়ে টিটকারী দেয় বা দুষ্টুমি করে, সে কাফির। এর প্রমাণ হল নিচের
আয়াতটি: “আর যদি তুমি
তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক
করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং
তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান
প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে
অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার” (আত তাওবাহ
৯:৬৫-৬৬) ৭-
যাদুবিদ্যা – একজন ব্যক্তিকে আরেকজনের বিরুদ্ধে লাগিয়ে
দেয়ার জন্য বা একজন ব্যক্তির সাথে অন্য ব্যক্তির ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য
যাদু করা এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। যে ব্যক্তি এগুলো করবে বা এগুলোর সমর্থন
করবে সে কাফির। কেননা: “তারা
ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি
করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে
জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ
হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত
না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না”।
(বাকারাহ ২: ১০২) ৮- মুশরিকদের সমর্থন দেয়া
এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সহযোগিতা করা। এর প্রমাণ হল এ আয়াতটি
যেখানে আল্লাহ বলেন: “হে
মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা
একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই
অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না” (মা’য়িদাহ
৫:৫১) ৯-
যারা বিশ্বাস করে যে কিছু ব্যক্তিদের মুহাম্মদ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আইনের বাইরে কাজ করার অনুমতি আছে
যেমন অনুমতি ছিল মুসা (আ) এর আইনের বাইরে খিযির (আ) এর কাজ করার, তারা
কাফির। কেননা আল্লাহ বলেন: “যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ
করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত” । (ইমরান ৩: ৮৫) ১০-
আল্লাহর মনোনীত ধর্ম থেকে দূরে সরে যাওয়া বা মুখ ফিরিয়ে নেয়া, এটাকে না
শেখা এবং এর অনুসারে জীবন যাপন না করা। এর প্রমান হল:
“যে ব্যক্তিকে তার পালনকর্তার আয়াতসমূহ
দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে
যালেম আর কে? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব” (সেজদাহ ৩২:২২)
এ
সকল কর্মকান্ড একজন ব্যক্তির জীবনে ইসলামকে অকার্যকর করে দেয় তা সে কৌতুক
করেই থাকুক বা নিষ্ঠাবান হয়েই করুক বা হোক সে ধর্মভীরু। যদি তাকে বাধ্য
না করা হয়ে থাকে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। উপরের প্রত্যেকটি অত্যন্ত
সাঙ্ঘাতিক এবং এ ধরণের ঘটনা অনেক হয়ে থাকে। মুসলিমদের এ ব্যাপারে সচেতন
থাকা এবং এই অপরাধগুলোর মধ্যে জড়িয়ে পড়ার ভয়ে ভীত থাকা উচিৎ। আল্লাহর
কাছে আমরা এ বিষয়গুলো থেকে নিরাপদে থাকার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি এবং
সাহায্য প্রার্থনা করি তার ক্রোধ ও কঠিন শাস্তি থেকে। মুহাম্মদ (সা) ও তার
পরিবারের উপর এবং তার সহযোগীদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
উপরিউক্ত
৪ নং পয়েন্টে তারাও অন্তর্ভূক্ত যারা বিশ্বাস করে যে ইসলামী শরীয়াহ
ব্যতীত অন্য কোন মানবরচিত বিধান বা মতবাদ বেশী কল্যাণকর অথবা সমকক্ষ; অথবা
এটা বিশ্বাস করে যে, ইসলামী শরীয়াহর আশ্রয় নেয়া উত্তম জানা সত্ত্বেও
অন্য কোন আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ আছে; অথবা মনে করে যে একবিংশ শতাব্দীতে
ইসলামীক সিস্টেম প্রয়োগ করা সম্ভব নয়; অথবা মনে করে যে মুসলিমদের
পশ্চাৎপদতার জন্য ইসলাম দায়ী; অথবা মনে করে যে এটা শুধুমাত্র একজন
ব্যক্তির ব্যাক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ তার জীবনের অন্য কোন পর্যায়ে এটা
মানা প্রয়োজন নাই।
উপরিউক্ত ৪ নং পয়েন্টে আরও
অন্তর্ভূক্ত হল যারা মনে করে, আল্লাহর হুকুম পালন করতে গিয়ে চোরের হাত
কাটা বা বিবাহিত ব্যাভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করা আধুনিক যুগে যথাযথ নয়।
এর
মধ্যে আরও আছে, তারা যারা মনে করে যে শারীয়াহর আইন অন্য যে কোন আইন থেকে
উত্তম অথচ বিশ্বাস করে যে এরপরও অন্য আইন অনুযায়ী শাসন করার সুযোগ আছে,
কেননা এভাবে সে সেটাকে হালাম মনে করল যেটা আলেমদের ঐক্যমত অনুযায়ী আল্লাহ
হারাম করেছেন। আল্লাহর কাছে আমরা এ বিষয়গুলো থেকে নিরাপদে থাকার জন্য
সাহায্য প্রার্থনা করি এবং সাহায্য প্রার্থনা করি তার ক্রোধ ও কঠিন শাস্তি
থেকে। মুহাম্মদ (সা) ও তার পরিবারের উপর এবং তার সহযোগীদের উপর আল্লাহর
রহমত বর্ষিত হোক।
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
লেখকঃ হাবিবুল্লাহ
মুহাম্মাদ ইকবাল | অনুবাদক : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
| প্রকাশনায় : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ
إن الحمد لله والصلاة والسلام على رسول
الله وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد
মা-বাবা
ছোট শব্দ, কিন্তু এ দুটি শব্দের সাথে কত যে আদর, স্নেহ, ভালবাসা রয়েছে
তা পৃথিবীর কোন মাপযন্ত্র দিয়ে নির্ণয় করা যাবে না। মা-বাবা কত না কষ্ট
করেছেন, না খেয়ে থেকেছেন, অনেক সময় ভাল পোষাকও পরিধান করতে পারেন নি, কত
না সময় বসে থাকতেন সন্তানের অপেক্ষায়। সেই মা বাবা যাদের চলে গিয়েছেন,
তারাই বুঝেন মা বাবা কত বড় সম্পদ। যেদিন থেকে মা বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে
গেলেন সেদিন থেকে মনে হয় কী যেন হারিয়ে গেল,তখন বুক কেঁপে উঠে, চোখ থেকে
বৃষ্টির মত পানি ঝরে, কী শান্তনাই বা তাদেরকে দেয়া যায়! সেই মা বাবা
যাদের চলে গিয়েছে তারা কি মা-বাবার জন্য কিছুই করবে না?। এত কষ্ট করে
আমাদের কে যে মা-বাবা লালন পালন করেছেন তাদের জন্য আমাদের কি কিছুই করার
নেই? অবশ্যই আছে। আলোচ্য প্রবন্ধে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মৃত মা-বাবা জন্য
কী ধরনের আমল করা যাবে এবং যে আমলের সওয়াব তাদের নিকট পৌছবে তা উল্লেখ
করা হলো: ১. বেশী
বেশী দু‘আ করা
মা-বাবা
দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর সন্তান মা-বাবার জন্য বেশী বেশী দু‘আ করবে।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে দু‘আ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কী দু‘আ করবো তাও
শিক্ষা দিয়েছেন । আল-কুরআনে এসেছে,
‘হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে আমার ঘরে
ঈমানদার হয়ে প্রবেশ করবে তাকে এবং মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করুন এবং
ধ্বংস ছাড়া আপনি যালিমদের আর কিছুই বাড়িয়ে দেবেন না ’[সূরা নুহ: ২৮] ।
মা-বাবা
এমন সন্তান রেখে যাবেন যারা তাদের জন্য দোয়া করবে। আবু হুরায়রা
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
অর্থ: মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার
যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে ৩ টি আমল বন্ধ হয় না-১.
সদকায়ে জারিয়া ২. এমন জ্ঞান-যার দ্বারা উপকৃত হওয়া
যায় ৩. এমন নেক সন্তান- যে তার জন্য দু‘আ করে [সহিহ
মুসলিম: ৪৩১০]
মূলত: জানাযার নামায প্রথম থেকে
শেষ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ স্বরূপ। ২. দান-ছাদকাহ করা, বিশেষ করে
সাদাকায়ে জারিয়াহ প্রদান করাঃ
মা-বাবা
বেচে থাকতে দান-সাদকাহ করে যেতে পারেন নি বা বেচে থাকলে আরো দান-সদকাহ
করতেন, সেজন্য তাদের পক্ষ থেকে সন্তান দান-সদকাহ করতে পারে। হাদীসে এসেছে,
অর্থ:
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ ‘‘জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমার মা হঠাৎ
মৃতু বরণ করেছেন। তাই কোন অছিয়ত করতে পারেন নি। আমার ধারণা তিনি যদি কথা
বলার সুযোগ পেতেন তাহলে দান-ছাদকা করতেন। আমি তাঁর পক্ষ থেকে ছাদকা করলে
তিনি কি এর ছাওয়াব পাবেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন।’’ [সহীহ মুসলিম:২৩৭৩]
তবে
সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে সাদাকায়ে জারিয়া বা প্রবাহমান ও চলমান সাদাকা
প্রদান করা। যেমন পানির কুপ খনন করা, (নলকুপ বসানো, দ্বীনী মাদরাসা
প্রতিষ্ঠা, কুরআন শিক্ষার জন্য মক্তব ও প্রতিষ্ঠান তৈরী করা, স্থায়ী
জনকল্যাণমূলক কাজ করা। ইত্যাদি। ৩. মা-বাবার পক্ষ থেকে সিয়াম পালনঃ
মা-বাবা
জীবিত থাকা অবস্থায় যদি তাদের কোন মানতের সিয়াম কাযা থাকে, সন্তান তাদের
পক্ষ থেকে সিয়াম পালন করলে তাদের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। আয়েশা
রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
অর্থ:
‘‘যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল এমতাবস্থায় যে তার উপর রোজা ওয়াজিব ছিল।
তবে তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিসগণ রোজা রাখবে’’ [সহীহ বুখারী:১৯৫২]।
অধিকাংশ
আলেমগণ এ হাদীসটি শুধুমাত্র ওয়াজিব রোযা বা মানতের রোযার বিধান হিসেবে
নির্ধারণ করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে নফল সিয়াম রাখার পক্ষে দলীল নাই। ৪. হজ্জ বা উমরাহ করাঃ
মা-বাবার
পক্ষ থেকে হজ্জ বা উমরাহ করলে তা আদায় হবে এবং তারা উপকৃত হবে। ইবনে
আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
«أَنَّ امْرَأَةً مِنْ جُهَيْنَةَ جَاءَتْ إِلَى النَّبِيِّ
صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ أُمِّي نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ فَلَمْ
تَحُجَّ حَتَّى مَاتَتْ أَفَأَحُجُّ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ حُجِّي عَنْهَا
أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ قَاضِيَةً اقْضُوا
اللَّهَ فَاللَّهُ أَحَقُّ بِالْوَفَاءِ»
অর্থ:
‘‘ জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর কাছে আগমণ করে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা হজ্জ করার
মানত করেছিলেন কিন্তু তিনি হজ্জ সম্পাদন না করেই মারা গেছেন। এখন আমি কি
তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তুমি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে হজ্জ কর। তোমার কি ধারণা
যদি তোমার মার উপর ঋণ থাকতো তবে কি তুমি তা পরিশোধ করতে না ? সুতরাং
আল্লাহর জন্য তা আদায় কর। কেননা আল্লাহর দাবী পরিশোধ করার অধিক উপযোগী’’
[সহীহ বুখারী: ১৮৫২]
তবে মা-বাবার পক্ষ থেকে যে
লোক হজ্জ বা ওমরাহ করতে চায় তার জন্য শর্ত হলো সে আগে নিজের হজ্জ-ওমরাহ
করতে হবে। ৫.
মা-বাবার পক্ষ থেকে কুরবানী করাঃ
মা-বাবার
পক্ষ থেকে কুরবানী করলে তার ছাওয়াব দ্বারা তারা উপকৃত হবে। এ বিষয়ে
হাদীসে এসেছে,
অর্থ: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি শিংযুক্ত দুম্বা
উপস্থিত করতে নির্দেশ দিলেন, যার পা কালো, চোখের চতুর্দিক কালো এবং পেট
কালো। অতঃপর তা কুরবানীর জন্য আনা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, হে আয়েশা! ছুরি
নিয়ে আস, তারপর বললেন, তুমি একটি পাথর নিয়ে তা দ্বারা এটাকে ধারালো কর।
তিনি তাই করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুরি
হাতে নিয়ে দুম্বাটিকে শুইয়ে দিলেন। পশুটি যবেহ্ করার সময় বললেন,
বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ তুমি এটি মুহাম্মাদ, তাঁর বংশধর এবং সকল উম্মাতে
মুহাম্মাদীর পক্ষ থেকে কবুল কর”। এভাবে তিনি তা দ্বারা কুরবানী করলেন। [
সহীহ মুসলিম:৫২০৩]
৬. মা-বাবার ওসিয়ত পূর্ণ করা
মা-বাবা
শরীয়াহ সম্মত কোন ওসিয়ত করে গেলে তা পূর্ণ করা সন্তানদের উপর দায়িত্ব।
রাশীদ ইবন সুয়াইদ আসসাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা একজন
দাসমুক্ত করার জন্য ওসিয়ত করে গেছেন। আর আমার নিকট কালো একজন দাসী আছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ডাকো, সে আসল,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করলেন, তোমার রব
কে ? উত্তরে সে বলল, আমার রব আল্লাহ। আবার প্রশ্ন করলেন আমি কে ? উত্তরে সে
বলল, আপনি আল্লাহর রাসুল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে মুক্ত করে দাও; কেন না সে মু’মিনা । [সহীহ ইবন
হিববান :১৮৯]
৭. মা-বাবার বন্ধুদের সম্মান করা
মা-বাবার
বন্ধুদের সাথে ভাল ব্যবহার করা, সম্মান করা, তাদেরকে দেখতে যাওয়া,তাদেরকে
হাদিয়া দেয়া। এ বিষয়ে হাদীসে উল্লেখ আছে,
অর্থ:
আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার রাদিয়াল্লাহু আনহু আব্দুল্লাহ ইবনে উমার
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, একবার মক্কার পথে চলার সময়
আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এক বেদুঈন এর সাথে দেখা হলে তিনি তাকে
সালাম দিলেন এবং তাকে সে গাধায় চড়ালেন যে গাধায় আব্দুল্লাহ
রাদিয়াল্লাহু আনহুমা উপবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর (আব্দুল্লাহ) মাথায় যে
পাগড়িটি পরা ছিলো তা তাকে প্রদান করলেন। আব্দুল্লাহ ইবান দীনার
রাহেমাহুল্লাহ বললেন, তখন আমরা আব্দুল্লাহকে বললাম: আল্লাহ তোমার মঙ্গল
করুক! এরা গ্রাম্য মানুষ: সামান্য কিছু পেলেই এরা সন্তুষ্ট হয়ে যায়-(এতসব
করার কি প্রয়োজন ছিলো?) উত্তরে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তার
পিতা, (আমার পিতা) উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বন্ধু ছিলেন।
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি “পুত্রের
জন্য পিতার বন্ধু-বান্ধবের সাথে ভাল ব্যবহার করা সবচেয়ে বড় সওয়াবের
কাজ’’ [সহীহ মুসলিম:৬৬৭৭]।
মৃতদের বন্ধুদের সাথে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলও আমাদেরকে উৎসাহিত
করে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
অর্থ:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোন বকরী যবেহ করতেন,
তখনই তিনি বলতেন, এর কিছু অংশ খাদীজার বান্ধবীদের নিকট পাঠিয়ে দাও [সহীহ
মুসলিম: ৬৪৩১]
৮. মা-বাবার আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখা
সন্তান
তার মা-বাবার আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‘যে ব্যক্তি তার পিতার
সাথে কবরে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে ভালবাসে, সে যেন পিতার মৃত্যুর পর তার
ভাইদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখে’ [সহীহ ইবন হিববান:৪৩২]
৯. ঋণ পরিশোধ করা
মা-বাবার
কোন ঋণ থাকলে তা দ্রুত পরিশোধ করা সন্তানদের উপর বিশেষভাবে কর্তব্য।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণের পরিশোধ করার বিষয়ে
বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত
হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
অর্থ: ‘‘মুমিন ব্যক্তির আত্মা তার ঋণের
সাথে সম্পৃক্ত থেকে যায়; যতক্ষণ তা তা তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হয়”।
[সুনান ইবন মাজাহ:২৪১৩]
ঋণ পরিশোধ না করার কারণে
জান্নাতের যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়; এমনকি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদও
হয় । হাদীসে আরো এসেছে,
«مَا دَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى يُقْضَى دَيْنُهُ»
অর্থ:
যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দার ঋণ পরিশোধ না করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে
প্রবেশ করতে পারবে না। [নাসায়ী ৭/৩১৪; তাবরানী ফিল কাবীর ১৯/২৪৮;
মুস্তাদরাকে হাকিম ২/২৯]
১০. কাফফারা আদায় করা
মা-বাবার
কোন শপথের কাফফারা,ভুলকৃত হত্যাসহ কোন কাফফারা বাকী থাকলে সন্তান তা পূরণ
করবে। আল-কুরআনে বলা হয়েছে,
অর্থ: যে ব্যক্তি ভুলক্রমে কোন মুমিনকে
হত্যা করবে, তাহলে একজন মুমিন দাসকে মুক্ত করতে হবে এবং দিয়াত (রক্ত পণ
দিতে হবে) যা হস্তান্তর করা হবে তার পরিজনদের কাছে। তবে তারা যদি সদাকা
(ক্ষমা) করে দেয় (তাহলে সেটা ভিন্ন কথা) [ সূরা আন-নিসা:৯২]
আবু
হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
অর্থ:
‘‘ যে ব্যক্তি কসম খেয়ে শপথ করার পর তার থেকে উত্তম কিছু করলেও তার
কাফফারা অদায় করবে’’ [সহীহ মুসলিম: ৪৩৬০] ।
এ
বিধান জীবিত ও মৃত সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। দুনিয়ার বুকে কেউ
অন্যায় করলে তার কাফফারা দিতে হবে। অনুরূপভাবে কেউ অন্যায় করে মারা গেলে
তার পরিবার-পরিজন মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাফফারা প্রদান করবেন। ১১. ক্ষমা প্রার্থনা করাঃ
মা-বাবার জন্য আল্লাহর নিকট বেশী বেশী
ক্ষমা প্রার্থনা করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। সন্তান মা-বাবার জন্য ক্ষমা
প্রার্থনা করায় আল্লাহ তা‘আলা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। হাদীসে বলা
হয়েছে,
অর্থ:
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মৃত্যুর পর কোন
বান্দাহর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। তখন সে বলে হে আমার রব, আমি তো এতো
মর্যাদার আমল করিনি, কীভাবে এ আমল আসলো ? তখন বলা হবে, তোমার সন্তান তোমার
জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় এ মর্যাদা তুমি পেয়েছো’’ [আল-আদাবুল
মুফরাদ:৩৬]।
মা-বাবা দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার
পর তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার বিষয়ে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু
বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
অর্থ: উসমান
রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন
এক মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার কবরের পার্শ্বে দাঁড়ালেন এবং বললেন
‘‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার
জন্য ঈমানের উপর অবিচলতা ও দৃঢ়তা কামনা কর, কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা
হবে’’ [মুসনাদুল বাজ্জার :৪৪৫]।
তাই সুন্নাত
হচ্ছে, মৃত ব্যক্তিকে কবরে দেয়ার পর তার কবরের পার্শ্বে কিছুক্ষণ
দাঁড়িয়ে তার জন্য প্রশ্নোত্তর সহজ করে দেয়া, প্রশ্নোত্তর দিতে সমর্থ
হওয়ার জন্য দো‘আ করা। ১২.
মান্নত পূরণ করা
মা-বাবা কোন
মান্নত করে গেলে সন্তান তার পক্ষ থেকে পূরণ করবে। ইবন আববাস রাদিয়াল্লাহু
আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
«أَنَّ
امْرَأَةً نَذَرَتْ أَنْ تَصُومَ شَهْرًا فَمَاتَتْ فَأَتَى أَخُوهَا
النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ :« صُمْ عَنْهَا ».
অর্থ:
কোন মহিলা রোজা রাখার মান্নত করেছিল, কিন্তু সে তা পূরণ করার পূর্বেই
মৃত্যুবরণ করল। এরপর তার ভাই এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি বলরেন, তার পক্ষ থেকে সিয়াম পালন কর। [সহীহ
ইবন হিববান:২৮০]
১৩. মা-বাবার ভাল কাজসমূহ জারী রাখা
মা-বাবা
যেসব ভাল কাজ অর্থাৎ মসজিদ তৈরী করা, মাদরাসা তৈরী করা, দীনি শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান তৈরীসহ যে কাজগুলো করে গিয়েছেন সন্তান হিসাবে তা যাতে অব্যাহত
থাকে তার ব্যবস্থা করা। কেননা এসব ভাল কাজের সওয়াব তাদের আমলনামায় যুক্ত
হতে থাকে। হাদীসে এসেছে,
যে
ব্যক্তির ইসলামের ভাল কাজ শুরু করল, সে এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সাওয়াব
পাবে। অথচ তাদেও সওয়াব থেকে কোন কমতি হবে না’’ [সহীহ মুসলিম:২৩৯৮]।
১৪. কবর যিয়ারত করা
সন্তান
তার মা-বাবার কবর যিয়ারত করবে। এর মাধ্যমে সন্তান এবং মা-বাবা উভয়ই
উপকৃত হবে। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
অর্থ: আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে
নিষেধ করেছিলাম,অত:পর মুহাম্মাদের মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি দেয়া
হয়েছে। এখন তোমরা কবর যিয়রাত কর, কেননা তা আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়
[সুনান তিরমীযি :১০৫৪]।
যিয়রাত কর, কেননা তা
আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয় [সুনান তিরমীযি :১০৫৪]।
কবর
যিয়ারত কোন দিনকে নির্দিষ্ট করে করা যাবে না। কবর যিযারত করার সময় বলবে,
অর্থ:
কবরবাসী মুমিন-মুসলিম আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক । নিশ্চয় আমরা
আপনাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আল্লাহর কাছে আপনাদের এবং আমাদের জন্য ক্ষমা
প্রার্থনা করছি। [সুনান ইবন মাজাহ :১৫৪৭]
১৫. ওয়াদা করে গেলে তা
বাস্তবায়ন করা
মা-বাবা কারো সাথে কোন ভাল কাজের ওয়াদা করে
গেলে বা এমন ওয়াদা যা তারা বেচে থাকলে করে যেতেন, সন্তান যথাসম্ভব তা
বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে,
অর্থ: আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয়
অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। [ সূরা বনী ইসরাঈল:৩৪]
১৬.কোন গুনাহের কাজ করে গেলে তা
বন্ধ করা
মা-বাবা বেচে থাকতে কোন
গুনাহের কাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তা বন্ধ করবে বা শরীয়াহ সম্মতভাবে
সংশোধন করে দিবে। কেননা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত
হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
এবং যে মানুষকে গুনাহের দিকে আহবান
করবে, এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ গুনাহ তার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। অথচ
তাদের গুনাহ থেকে কোন কমতি হবে না’’ [সহীহ মুসলিম:৬৯৮০]।
১৭.মা-বাবার পক্ষ থেকে মাফ
চাওয়া
মা-বাবা বেচে থাকতে কারো
সাথে খারাপ আচরণ করে থাকলে বা কারো উপর যুলুম করে থাকলে বা কাওকে কষ্ট
দিয়ে থাকলে মা-বাবার পক্ষ থেকে তার কাছ থেকে মাফ মাফ চেয়ে নিবে অথবা
ক্ষতি পূরণ দিয়ে দিবে। কেননা হাদীসে এসেছে,
আবু
হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জান নিঃস্ব ব্যক্তি কে? সাহাবীগণ
বললেন, আমাদের মধ্যে যার সম্পদ নাই সে হলো গরীব লোক। তখন তিনি বললেন, আমার
উম্মতের মধ্যে সে হলো গরীব যে, কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাত নিয়ে
আসবে অথচ সে অমুককে গালি দিয়েছে, অমুককে অপবাদ দিয়েছে, অন্যায়ভাবে লোকের
মাল খেয়েছে, সে লোকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। কাজেই
এসব নির্যাতিত ব্যক্তিদেরকে সেদিন তার নেক আমল নামা দিয়ে দেয়া হবে। এবং
তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। [সুনান আততিরমিযি :২৪২৮]
সুতরাং
এ ধরনের নিঃস্ব ব্যক্তিকে মুক্ত করার জন্য তার হকদারদের কাছ থেকে ক্ষমা
চেয়ে নেয়া সন্তানের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
অল্লাহ
তা‘আলা আমাদেরকে মা বাবার জন্য আমলগুলো করার তাওফীক দিন। আমীন!
وصلى الله على نبينا محمد وعلي اله وأصحابه ومن تبعهم
بإحسان إلى يوم الدين- وأخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين